চীন, থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমারে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ মার্চ) শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল মিয়ানমার। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সাগাইং শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে। এলাকাটি রাজধানী নেপিদো থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। খবর বিবিসি, এএফপি।
এদিকে শুক্রবার ব্যাংককে সরকারি অফিসের নির্মাণাধীন একটি ৩০তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী ভবনধসে পড়ে। এতে ৪৩ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে পুলিশ ও চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন। শক্তিশালী ভূমিকম্পে পুরো শহর কেঁপে উঠেছে।
৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর থাই রাজধানীর উত্তরে অবস্থিত ওই ভবনটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের পর থাই কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী পাতোংতার্ন সিনাওয়াত্রা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নেপিদো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির সংবাদদাতা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের আঘাতে সেখানে বিভিন্ন রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক ভবনের ছাদ থেকে আস্তরণ খসে পড়েছে।
ব্যাংকক থেকে বিবিসির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কারণে ভবনগুলো দুলতে শুরু করে। কয়েকটি ভবনের জানালাও ভেঙে পড়তে দেখা গেছে। চীনের বিভিন্ন স্থানেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিভিন্ন ভবন থেকে লোকজন বের হয়ে এসে রাস্তায় জড়ো হচ্ছেন।
থাইল্যান্ডের তুলনায় মিয়ানমারে ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। ১৯৩০ সাল থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে দেশটিতে ৭ মাত্রার ছয়টি ভূমিকম্প আঘাত হানে যার সবগুলোই ছিল সাগাইং ফল্টের কাছে। ভূপৃষ্ঠের নিচের ওই ফাটল দেশটির মাঝ বরাবর চলে গেছে।
থাইল্যান্ড মূলত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল নয়। কিন্তু সেখানে অনুভূত হওয়া প্রায় সব ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হয় প্রতিবেশী মিয়ানমার।
ব্যাংককের ভবনগুলো শক্তিশালী ভূমিকম্প সহ্য করার মতো ক্ষমতাসম্পন্ন নয়। সে কারণে সেখানে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অকাঠামোগত ক্ষয়-ক্ষতি হতে পারে।